জাহান্নাম থেকে বাঁচার ১৫ টি উপায়

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, "হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর" -সূরা আত-তাহরীম 6


জাহান্নাম থেকে বাঁচা প্রত্যেক মুসলমানের একমাত্র কামনা। নাজাতের পথ শুধু নামাজ-রোজা না, বরং শরীয়তের সামগ্রিক অনুসরণ। 

সূচিপত্র:

 আন্তরিক তওবা 

আন্তরিক তওবা হলো অতীতের পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে সেই পাপ কাজ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই পাপের দিকে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা

দৃঢ় ঈমান 

দৃঢ় ঈমান হলো স্হির এবং অবিচল বিশ্বাস। ঈমানের মুল ভিত্তি হলো ৬টি মৌলিক বিষয়ের উপর অটল বিশ্বাস _ ১ আল্লাহ, ২ তার ফেরেশতা, ৩ আসমানি কিতাব, ৪ নবী রাসূল, ৫ পরকাল, এবং ৬ তাকদিরের উপর বিশ্বাস  রেখে সর্বদা আল্লাহর প্রতি অবিচল থাকা।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়  

প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ গুলো হলো ফজর, জোহর, আছর, মাগরিব,এবং  ইশা।  নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং ঈমানের পর সর্ব প্রধান ইবাদত। তাই মুসলমানের উচিত সঠিক সময়ে নিষ্ঠার সাথে নামাজ আদায় করা।

আরোপড়ুন: নাজাতের পথ শুধু নামাজ-রোজা না, বরং শরীয়তের সামগ্রিক অনুসরণ করা

কোরআন তেলাওয়াত  

কোরআন তেলাওয়াত ও সেই অনুযায়ী জীবনযাপন হলো ইসলামের মুল ভিত্তি।  কোরআন কেবল তেলওয়াতের জন্য নয় এটি একজন মুসলমানের জন্য পূর্নাঙ্গ সংবিধান। কোরআনের উপর ভিত্তি করে এবং সেই অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলা একজন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য।

আল্লাহর স্মরণ (যিকির)  

যিকির হলো আল্লাহ তায়ালার স্মরণ বা আল্লাহ কে স্মরণ করা। যিকির একজন বান্দা এবং আল্লাহর মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্হাপন করে। এবং অন্তরে প্রশান্তি নিয়ে আসে। এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে আমাদের সুরক্ষা করে। এমনকি শরিয়ত অনুযায়ী নির্দেশিত জীবনযাপন এমনকি আল্লাহর সৃষ্টির সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা ও এর অন্তর্ভুক্ত।

 দান সদকা ও যাকাত প্রদান  

যাকাত হলো ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম যাকাত দেওয়া একজন সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য ফরজ।একজন মুসলমানের জন্য ( সাড়ে ৭তোলা সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা সমমুল্যের সম্পদের ওপর ২.৫% হারে যাকাত প্রদান করতে হয়।  এবং অসহায় অভাবগ্রস্ত দরিদ্রকে দান করা একজন মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব।

আন্তরিকতার সাথে রোজা পালন  . 

আন্তরিকতার সাথে রোজা পালন এটি কেবল পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা নয় বরং এটি আত্তশুদ্বি  এবং খোদাভিতি অর্জনের এক অন্যন্য মাধ্যম।  রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের আশায় রোজা রাখবে তার পুর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। এবং রোজা মানুষকে আল্লাহর উপস্থিতি গভীর ভাবে উপলব্ধি করতে শেখায়। এটি সব পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।

 পিতা মাতার প্রতি সদয় আচরণ  

পিতা মাতার প্রতি সদয় আচরণ করা একজন সন্তানের জন্য নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। একজন সন্তানের উচিত তার পিতা মাতার প্রতি বিনয়ী আচরণ এবং তাদের আদেশ উপদেশ মেনে চলা এবং সবসময় সন্মান দিয়ে কথা বলা এবং পিতা মাতার প্রতি দ্বায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করা।

আরোপড়ুন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন

 উত্তম চরিত্র ও সততা

উত্তম চরিত্র ও সততামানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ ও নৈতিকতার মুল ভিত্তি।  সৎ চরিত্র এবং সততার সমন্বয়ে মানুষের জিবন উত্তম হয়ে ওঠে।  উত্তম চরিত্র যেমন মানুষের ভেতরের সৌন্দর্য ও মানবিক গুণাবলি প্রকাশ করে তেমন সততা,  কথা ও কাজ এবং চিন্তায় সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকে।  এটি একটি মানব চরিত্রে সবচেয়ে বড় সম্পদ। ইসলাম ধর্মে উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব অপরিহার্য  এবং হাদিসে বলা হয়েছে যার চরিত্র উত্তম সে প্রকৃত ঈমানের অধিকারী।

 অধিক পরিমাণে ক্ষমা প্রার্থনা  

ইস্তিগফার হলো গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিক ভাবে ক্ষমা চাওয়া।  নিয়মিত ইস্তিগফার পাঠ করলে আল্লাহর কাছে ছোট বড় গুনাহের মাফ পাওয়া যায়।  ক্ষমা প্রার্থনা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দের একটি আমল। এবং পাপের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার  নামই ইস্তিগফার

অভাবী মানুষ কে সহায়তা করা 

অভাবী মানুষ কে সহায়তা করা একটি মানবিক গুন এছাড়া ও ইসলামে অভাবী মানুষকে সাহায্য করাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে গন্য করা হয়েছে। এবং ইসলাম সবসময় ভ্রাতৃত্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা দেয়।  তাই গরীব অসহায় দুস্হের প্রতি সাহায্য সহযোগিতা করা বিপদে পাশে দারানো এবং সহানুভতিশীল হওয়া অত্যাবশ্যক।

কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ 

কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ বা সবর হলো জীবনে যে কোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।  ধৈর্য হলো বিপদের সময় বিচলিত না হয়ে শান্ত থাকা এবং নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করার পর আল্লাহর ওপর পুর্ন  ভরসা রাখা।  ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে মানুষ যে কোনো কঠিন সময় পার করে জীবনে সফলতা ও মানসিক শান্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়।

আরোপড়ুন: তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করবো

কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা  

ইসলামে গুনাহ ২ প্রকার কবিরা গুনাহ  ও সগীরা গুনাহ  কুরআন ও হাদিসে যেই পাপগুলো কঠোর শাস্তি ও জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে  সেগুলোই কবিরা গুনাহ।  গুনাহ মাফের অন্যতম উপায় হলো কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা।  কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকলে আল্লাহ বান্দার অন্যন্য ছোট গুনাহ গুলো মাফ করে দেন এবং কবিরা গুনাহ থেকে দুরে থাকা সগীরা গুনাহ মাফের অন্যতম উপায়।

অবিরত দোয়া করা 

অবিরাম দোয়ার অর্থ হলো কখনোই আশা না হারিয়ে আল্লাহর কাছে অনবরত ক্ষমা ও রহমত চাইতে থাকা। নিয়মিত ও নিরন্তর দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর বান্দার দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যান সাধন করেন।  এবং বিপদ থেকে রক্ষা করেন  অবিরত দোয়া আল্লাহর কাছে নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম

আল্লাহর অপর ইমান নিয়ে মৃতবরন 

আল্লাহর অপর ইমান নিয়ে মৃতবরন  করা একজন মুসলমানের জন্য একটি পরম সৌভাগ্য।  যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্হাপন করে ইমানদার অবস্থায় মারা যায় তার জন্য জান্নাত অবধারিত। এবং ঈমানদার ব্যক্তি মৃত্যু হলে ফেরেশতারা তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির সুসংবাদ দেয় তার কবর  জান্নাতের বাগানে পরিনত করে।

শেষ কথা :

আল্লাহ বলেন: "আর যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করবো" - সূরা আনকাবুত 69

সবচেয়ে ছোট আমল হলো - প্রত্যেক কাজের শুরুতে "বিসমিল্লাহ" বলা। এই ছোট আমলও জাহান্নাম থেকে বাঁচায়।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করুন। আমাদের আমল কবুল করুন। আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইওর ব্র্যান্ড পয়েন্টস নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url